সব বাবা-মায়ের জানা উচিত, ছোটরা মুখে-মুখে ত’র্ক করলে কি করবেন আর কি করবেন না!

বছর বারোর চিনি এখন বেশ মায়ের মুখে মুখে ত’র্ক করে। তাকে পড়তে বসলে বলে, ‘‘এখন পড়ব না। ভাল লাগছে না।’’ কোনও কাজ ক’রতে বা’রণ করলে আরও চেঁ’চামেচি করে, ‘‘কেন করব না?’’ একে কথা শু’নছে না মেয়ে, তায় মায়ের স’ঙ্গে মুখে-মুখে ত’র্ক করছে। চিনিকে সা’মলাতে না’জেহাল তার মা-বাবা। এক দিকে তাঁরা বি’র’ক্ত হ’চ্ছেন আবার বু’ঝতে পা’রছেন, মেয়ের আ’লাদা মত তৈ’রি হচ্ছে। কিন্তু কী করলে বা বললে যে মেয়ে সংয’ত হবে, তা বুঝতে পারছেন না।

এই সম’স্যাটি নতুন নয়। ন’-দশ বছর বয়স অর্থাৎ প্রি-টিনএজ থেকে এ ধ’রনের সম’স্যা শু’রু হয়। ছেলেমেয়েদের একটা ম’তামত, দৃ’ষ্টিভঙ্গি তৈরি হতে শুরু করে এ সময়ে। তাই মা-বাবাকে অনেক ঠান্ডা মাথায় প’রিস্থিতি আয়ত্তে আনতে হবে। রেগে গিয়ে চেঁ’চামেচি করলে আর যাই হোক, স’মাধান হবে না। একে একে বু’ঝতে হবে সম’স্যার জা’য়গা। তবেই সমাধান হবে সহ’জ।

কেন এমন ত’র্ক এবং রাগ?

পে’রেন্টিং কনসালট্যান্ট পায়েল ঘোষ বললেন, ‘‘এই সময়ে শি’শু’দের ব্রেন রি’মডেলিং হয়। প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স আমাদের বো’ধবুদ্ধি, চি’ন্তাভাবনা নি’য়ন্ত্রণ করে অর্থাৎ ল’জিকাল থি’ঙ্কিংয়ে সাহায্য করে। এই অংশের ডে’ভেলপমেন্ট একটু দেরিতে হয়। আর আছে অ্যা’মিগডালা। এই অংশ আগে ডে’ভেলপ করে যায়, ফলে এর প্র’ভাবেই শি’শুরা একটা কথার হুট করে জ’বাব দিয়ে দেয়। অনেক বেশি আবেগে চলে। লজিকাল থি’ঙ্কিং সেখানে কম। তখন তাদের ব্যবহারে কোনও বাঁ’ধ’ন থাকে না। ফলে সী’মাহীন হয়ে যায় বহিঃপ্র’কাশ। চট করে রেগে যায়, চিৎকার করে ওঠে, কিছু ক্ষেত্রে

জি’নিসপত্র ছু’ড়ে ফে’লেও দিতে পারে। ক্র’মশ তেরো, চোদ্দো বছর হলে তা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।’’ কিন্তু এই বয়সে যদি তাকে ঠিক মতো সামলানো না যায়, তা হলে পরবর্তী ক্ষে’ত্রে মা-বাবার থেকে দূ’র’ত্ব অব’ধি তৈরি হতে পারে।

কী ভাবে সা’মলাবেন?

• মনে রাখতে হবে, এই বয়সের সন্তানের বুদ্ধি প’রিণত নয়। কিন্তু মা-বাবা প’রিণত। সুতরাং ছেলেমেয়ে চেঁ’চামেচি করলেও ঠান্ডা মাথায় প’রিস্থিতি সা’মলানোর জন্য তাঁদের প্র’স্তুত থাকতে হবে। সন্তান যতই চেঁ’চামেচি করুক, মা-বাবাকে শান্ত থাকতে হবে। সন্তান চেঁ’চিয়ে কথা বললেও আপনি শা’ন্ত গলায় উত্তর দিন। ওরা কিন্তু দেখে শেখে। আগে ওকে চিৎ’কার করা ব’ন্ধ ক’রতে বলুন। তার পর ধীরে, ঠান্ডা গলায় তাকে জি’জ্ঞেস ক’রতে হবে, সে কী চায়। সে যদি পড়তে না চায়, তাকে কিছুটা সময় ছাড় দিন। দেখু’ন সে নিজে থেকে পড়া শুরু করে কি না। যদি না করে তখন তাকে ডেকে জা’নতে চান, সে কেন পড়তে চায় না।

• ছেলে বা মেয়ে কোনও বিষয়ে উত্তর দিলে বা উল্টে প্রশ্ন করলে, গোড়াতেই তাকে থামিয়ে দেবেন না। অনেক মা-বাবাই মনে করেন, তাঁদের সি’দ্ধান্তই চূড়া’ন্ত। সন্তান কোনও মতামত দিলে তাকে চুপ ক’রিয়ে দেন। এই ম’নোভাব ব’দলানো জ’রুরি। সন্তান কেন প্রশ্ন করছে, ত’র্ক কেন করছে সেটা বোঝার চে’ষ্টা করুন। হতে পারে সে যু’ক্তিযুক্ত কথা বলছে না। কিন্তু সেটা শুনুন। তাকেই জি’জ্ঞেস করুন সে কেন এমনটা বলছে? ওকে যু’ক্তি দিয়ে ওর কথা বা মত বোঝাতে বলুন। তার পর আপনার যু’ক্তি দিয়ে যদি তার যু’ক্তি খ’ণ্ডন ক’রতে পারেন, তা হলেই সম’স্যা মিটে যাবে। এতে তার যু’ক্তিবোধও তৈরি হবে। সে বুঝবে নিজে’র কোনও মতামত মা-বাবাকে বোঝাতে গেলে তা যথে’ষ্ট যু’ক্তিসঙ্গ’ত হতে হবে।

• অনেক মা-বাবা সন্তানের গায়ে হাত তোলেন। কেউ তিন বছর বয়স থেকে, কেউ পাঁচ বছর বয়স থেকে। কিন্তু ন’-দশ বছর বয়সেও সেই অ’ভ্যেস জা’রি থাকলে, তা সন্তানের আ’ত্মসম্মানে আঘা’ত ক’রতে পারে। সে কিন্তু তখন আরওই কথা শু’নবে না। বরং তার মনে হবে যে, ব’ড়জো’র সে মা’র খাবে। সে আরও জেদি হয়ে যাবে তার জা’য়গায়। মা-বাবার কোনও বোঝানোই তখন কাজ করবে না। তাই গায়ে হাত তোলাটা স’মাধান নয়।

• মনে রাখবেন, এ বয়সে ও যে ত’র্ক বা ব্যবহার করছে, তা আবেগের ব’শবর্তী হয়ে করছে। তাই সেটাকেই অ’স্ত্র ক’রতে হবে। স’ন্তান খুব খা’রাপ ভাবে কথা বললে উত্তর দেবেন না। বরং চুপ করে সেখান থেকে চলে যান। তার স’ঙ্গে কথা ব’ন্ধ রাখু’ন। ওকে বোঝান যে, ওর ব্যবহারে আপনি দুঃ’খ পেয়েছেন। এই বয়সের শি’শুদের অ’বলম্বন কিন্তু মা-বাবাই। তাই ওরা মা-বাবার স’ঙ্গে খা’রাপ ব্যবহার করে ফেললেও সেখানেই আ’শ্রয় খোঁ’জে। দেখবেন, সে নিজেই হয়তো আপনার পাশে এসে বসবে, কথা বলতে চাইবে। তখন ওকে বলুন, আপনি কতটা কষ্ট পেয়েছেন ওর ব্য’বহারে। দেখবেন, ও বুঝবে। ওর মনে থাকবে যে, মা কথা ব’ন্ধ করে দিতে পারে। ওষুধের মতো কাজ করবে এই নীরবতা।

• অনেক সময়ে হাজার বুঝিয়েও কাজ হয় না। তখন জো’র করলে চলবে না। বরং ওর কথা মেনে নিয়ে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে। পায়েল ঘো’ষের কথায়, ‘‘হয়তো কোনও পরীক্ষার আগে সন্তান পড়তেই চাইল না, ছেড়ে দিন। সেই পরীক্ষায় খা’রাপ রে’জ়াল্ট করলে সে নিজেই বুঝে যাবে। তখন আপনি বলুন সে কোন জা’য়গায় ভুলটা করেছে। ওর ভুল থেকেই ওকে শিখতে দিন।’’

টি’নএজ বা বয়ঃস’ন্ধির মতোই প্রি-টিনএজও খুব গু’রুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে মন ও শ’রীর প্র’স্তুত হয় পরিবর্তনের জন্য। এখন ব’হির্জগতের প্র’ভাবও অনেকটাই ওদের জীবনে। সুতরাং নিজস্ব মতামত যে ছোট থেকে তৈরি হবে, তা আ’শ্চর্যের নয়। কিন্তু সেই মত যেন ঠিক হয়, তা দেখা মা-বাবার দায়িত্ব।

## কমেন্ট বক্সে মতামত দিনঃ-

Check Also

দারুন পদ্ধতিতে গ্যাস বার্নারের ফ্লেম বাড়িয়ে নেবেন যেভাবে, রইলো ভিডিও সহ!

সময়ের সাথে সাথে উন্নত হয়েছে সভ্যতা । সেই মতো পাল্টেছেন পুরনো সব জিনিসপত্র। এসেছে নিত্য …

Leave a Reply

error: