সুরের মূর্ছনায় সুস্বাদু খাবার

বাউলগান কিংবা বারান্দায় দাঁড়িয়ে কফি খেতে খেতে যমুনা ফিউচার পার্কের আলো-ঝলমলে দৃশ্য। সঙ্গে বাড়তি যোগ রাতের আকাশে বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে আসা নানা গন্তব্যগামী বিমান।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেটে লোকা রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে চোখে পড়ল এমন দৃশ্য। বাইরের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, রেস্তোরাঁর ভেতরে চোখধাঁধানো আলোর কাজ, সঙ্গে যন্ত্রসংগীতের মূর্ছনা—সব মিলিয়ে একধরনের আরামদায়ক অনুভূতি হয়।

ঢুকেই রেস্তোরাঁর কোনার একটি টেবিলে বসে পড়লাম। ভেতরেই চলছিল সরাসরি বাউলগান। এ রকম একটি শহুরে রেস্তোরাঁয় বাউলগান হচ্ছে দেখেই অন্য রকমের ভালো লাগা কাজ করছিল।

বাউলগান শুনতে শুনতে এবার খাবার ফরমাশ দেওয়ার পালা। মিনিট খানেক পরেই একজন মেন্যু ও ট্রেতে জ্বলন্ত মোমবাতি রেখে গেলেন টেবিলে। যেহেতু আগে কখনো খাইনি এখানে, তাই শুরুটা করতে চাইলাম কফি দিয়ে।

কফির সঙ্গে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই চাইলাম, চলেও এল খানিক পর। কফি আর ফ্রেঞ্চ ফ্রাই টেবিলে রাখতে রাখতেই ওয়েটার জানালেন, চাইলে বারান্দায় গিয়েও খেতে পারি। যে–ই বলা সে–ই কাজ; কফি আর ফ্রেঞ্চ ফ্রাই নিয়ে সোজা বারান্দায়।

সামনে যমুনা ফিউচার পার্কের আলোর ঝলমলানি দেখে কফিতে মুখ দিতেই মনে হলো, বাহ! এরা গড়পড়তা রেস্তোরাঁর চেয়ে কফিটা ভালোই বানায়।

তবে আহামরি ধরনের অসাধারণ না। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই মাঝারি মানের খেতে। বারান্দায় কফি শেষ করে আরেকটু থেকে ভেতরে এলাম। তখনো বাউলগান চলছে।

এবার ভারী কিছু খাওয়ার পালা। মেন্যু থেকে স্পাইসি গার্লিক মাশরুম, লোকা স্পেশাল ক্রিম অব মাশরুম স্যুপ, সঙ্গে একটি সেট মেন্যু ও বারবিকিউ চিকেন ফরমাশ করলাম।

প্রথমে এল গার্লিক মাশরুম। প্রথমবার মুখে দিয়ে গার্লিক, বাটার সঙ্গে হালকা ঝালের অসাধারণ স্বাদে মুখ ভরে গেল। হয়তো আমার খাওয়া অন্যতম সেরা গার্লিক মাশরুম। লোকাতে গেলে এটা চেখে দেখতে ভুলবেন না যেন।

গার্লিক মাশরুম খেতে খেতেই চলে এল লোকা স্পেশাল ক্রিম অব মাশরুম। পরিমাণে বেশ কম, তবে স্বাদে বেশ ভালো। বাটার আর মাশরুমের বেশ সুস্বাদু মিশেল স্যুপে। তবে পরিমাণের তুলনায় দাম খানিকটা বেশিই মনে হলো।

ততক্ষণে সেট মেন্যু টেবিলে চলে এসেছে। ফ্রায়েড রাইস, চায়নিজ মিক্সড ভেজিটেবল আর চিকেন বারবিকিউ। চাইনিজ মিক্সড ভেজিটেবল ততটা আহামরি মনে না হলেও বারবিকিউ চিকেন এক কথায় অসাধারণ।

বেশ রসালো এবং ওয়েল কুকড খানিকটা বিফ স্টেকের মতো। মুখে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাদ যেন পুরো মুখে ছড়িয়ে যায়। ফ্রায়েড রাইসের পরিমাণ এবং স্বাদ ভালো।

আলোছায়ার খেলা, মোমবাতির আলোয় খাবার পরিবেশন, রেস্তোরাঁর বারান্দায় দাঁড়িয়ে থেকে রাতের ঢাকা, কর্মীদের হাসিমুখ, সঙ্গে সুস্বাদু খাবার—সব মিলিয়ে সময় কাটানোর জন্য বেশ আরামদায়ক পরিবেশ রয়েছে লোকায়।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *